সিলিসিয়া (Silicea) – হোমিওপ্যাথিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ। যাকে আমরা সাধারণত সাইলিশিয়া নামে ডাকি।
উৎস ও প্রাপ্তিস্থান:
সিলিসিয়া একটি অজৈব পদার্থ যা সিলিকন ডাই অক্সাইড (Silicon Dioxide) বা সিলিকা নামেও পরিচিত। এটি প্রাকৃতিকভাবে বালি, পাথর, কোয়ার্টজ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। হোমিওপ্যাথিতে এটি Trituration (ঘর্ষণ ও মিশ্রণ) পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়, যেখানে এটি দুধের চিনির (lactose) সাথে ঘর্ষণ করে ঔষধে পরিণত করা হয়।
প্রুভার (Prover):
Silicea-র প্রুভিং করেন Dr. Samuel Hahnemann ও অন্যান্য হোমিওপ্যাথি প্রবর্তকরা। এটি বহু চিকিৎসা পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং লক্ষণসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
শরীরের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব ও ব্যবহার:
সিলিসিয়া মূলত সেইসব রোগীদের জন্য কার্যকর, যাদের স্বভাব চঞ্চল, লাজুক, দুর্বল ইচ্ছাশক্তি, কুঁচকানো চামড়া, পুঁজযুক্ত ফোঁড়া বা দীর্ঘদিনের ঘা। এটি হাড়, চুল, নখ, ত্বক, গ্রন্থি ও নার্ভাস সিস্টেমে প্রধানত কাজ করে।
বিশেষত ব্যবহৃত হয়:
ঘন ঘন ফোঁড়া হলে,
ক্ষত সহজে না শুকালে,
শরীরে কাঁপুনি সহ ঠান্ডাজনিত সমস্যা,
পুঁজ জমে থাকা চুলকানিতে,
হাড় ক্ষয় বা হাড়ের সংক্রমণে (Osteomyelitis),
টিউমার জাতীয় সমস্যা,
চুল ও নখ দুর্বল হলে।
কাতরতা (Modalities):
বাড়ে: ঠান্ডা হাওয়া, শীতল পানি, সন্ধ্যায় বা রাতে, চাঁদের পূর্ণিমা ও নতুন চাঁদের সময়।
কমে: উষ্ণতা বা গরমে, গরম পোশাক বা পরিবেশে
মাত্রা ও প্রয়োগ:
নিম্ন মাত্রা (6X, 12X): দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগে নিয়মিত প্রয়োগযোগ্য।
মধ্যম মাত্রা (30): মাঝারি লক্ষণে ব্যবহৃত।
উচ্চ মাত্রা (200, 1M): প্রমাণিত ক্ষেত্রে ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় সাবধানতার সাথে প্রয়োগ করা হয়।
Silicea ধীরে ধীরে কাজ করে, তাই প্রয়োগের পর পর্যবেক্ষণ করা জরুরি
ইনশাল্লাহ আগামীকালকে "মায়াজম" নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন