বায়োকেমিক মেডিসিন (Biochemic Medicine) কী?
বায়োকেমিক মেডিসিন হল হোমিওপ্যাথির একটি বিশেষ শাখা, যার মূল ভিত্তি গঠিত হয়েছে শরীরের কোষে থাকা খনিজ লবণের ঘাটতির ফলে সৃষ্টি হওয়া রোগ নিরাময়ের লক্ষ্যে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রবর্তক জার্মান ডাক্তার ড. উইলহেল্ম হেনরিচ শুসলার (Dr. Wilhelm Heinrich)।
তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে কিছু নির্দিষ্ট খনিজ উপাদান (Mineral Salts) থাকে। যখন এই খনিজ উপাদানগুলোর ঘাটতি ঘটে, তখন কোষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয় এবং নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। এই ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করা যায়, আর এখানেই বায়োকেমিক চিকিৎসার মূল দর্শন।
হোমিওপ্যাথিতে বায়োকেমিক ওষুধের গুরুত্ব:
1. হোমিওপ্যাথির পরিপূরক শক্তি:
বায়োকেমিক মেডিসিন মূলত শরীরের কোষে থাকা খনিজ উপাদানের ঘাটতি পূরণ করে। অনেক সময় হোমিওপ্যাথিক মূল ওষুধের (Mother Tincture বা Single Remedy) সঙ্গে বায়োকেমিক ওষুধ ব্যবহারে দ্রুত ও দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া যায়।
2. রোগের মূল কারণ নিরাময়ে সহায়ক:
হোমিওপ্যাথি রোগের লক্ষণ দেখে ওষুধ নির্বাচন করে, আর বায়োকেমিক কোষের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রোগ পুনরাবৃত্তি হয় না।
3. শিশু ও দুর্বল রোগীর জন্য উপযুক্ত:
শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মহিলা বা দুর্বল রোগীদের জন্য বায়োকেমিক ওষুধ নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং সহজে সহ্যযোগ্য।
4. দীর্ঘস্থায়ী রোগে কার্যকর:
গেঁটে বাত, স্কিন ডিজিজ, নার্ভ দুর্বলতা, অ্যানিমিয়া, লিভার সমস্যা, মাথাব্যথা ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় বায়োকেমিক চিকিৎসা অনেক সময় হোমিওপ্যাথির চেয়ে স্থায়ী ও গভীর ফল দেয়।
5. প্রয়োগ ও মাত্রা সহজ:
অন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো শক্তি (পটেন্সি) নির্বাচন নিয়ে জটিলতা নেই। সাধারণত ৩x, ৬x বা ১২x-এ ব্যবহৃত হয়। ট্যাবলেট আকারে ব্যবহার সহজ, তাই রোগী মেনে চলে।
6. সেল সল্ট হিসেবে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান:
শরীরের কোষে ১২টি খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ করাই বায়োকেমিক চিকিৎসার মূল লক্ষ্য। অর্থাৎ এটি “Cellular Therapy” হিসেবে কাজ করে।
৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
যেহেতু এই ওষুধগুলো দেহের স্বাভাবিক খনিজ ঘাটতি পূরণ করে, এটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহারে শরীর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে এবং ভবিষ্যতে অনেক রোগের প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
ইনশাল্লাহ আগামীকালকে 12 টি বায়োকেমিক মেডিসিন কি কি কাজে ব্যবহার করা হয়। তার মাত্রা সহ প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন